২ কোটি টাকার বালিশ : ইতিহাসের সেরা দুর্নীতি

Spread the love

ডেস্ক রিপোটঃ রাজনৈতিক রসিকতার ছলে বহুল ব্যবহৃত বাক্য ‘নালিশ করে কী পেলেন’? ‘বালিশ’! নালিশ করে যদি সত্যিই বালিশ পান তাহলে সত্যিই আপনি ভাগ্যবান। তবে সে বালিশ হতে হবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের গ্রিন টিসি হাউজিং প্রকল্পের। কারণ, তাদের ব্যবহৃত এক একটি বালিশের মূল্য প্রায় ৬ হাজার টাকা। অবিশ্বাস্য তুলতুলে নরম বালিশ! অকল্পনীয় মনে হচ্ছে! অবিশ্বাস্য হলেও সত্য গ্রিন সিটি প্রকল্পটির ফ্ল্যাটে ব্যবহারের জন্য বালিশ ও আসবাসপত্র কেনা এবং ভবনে উঠাতে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা।

প্রকল্পের নথি বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে এই তথ্য। তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, সরকারি নিয়ম মেনেই এই দামে বাজার থেকে ‘কেনাকাটা’ করা হয়েছে। প্রকল্পে শুধু বালিশ কেনা হয়েছে ৩৩০টি। প্রতিটি বালিশের মূল্য ৫৯৫৭ টাকা। এগুলো আবার ফ্ল্যাটে উঠাতে খরচ করা হয়েছে ৯৩১ টাকা। এতে খরচ হয় মোট ২ কোটি ২৭ লাখ ৩ হাজার ৪০ টাকা। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান (কেপিআই) কেনাকাটা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় বইছে। প্রশ্ন হলো- রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদ মহামান্য প্রেসিডেন্ট কি ৬ হাজার টাকার বালিশে মাথা দিয়ে ঘুমান? শুধু কি তাই! প্রকল্পের পরিচালকের বেতন ধরা হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা।

তিনি মাসে পান প্রায় ৭ লাখ টাকা। প্রকল্প পরিচালকের গাড়ির ড্রাইভার বেতন পান প্রায় ৭৪ হাজার টাকা। মালী বেতন পান প্রায় ৮০ হাজার টাকা। মিডিয়ায় এই চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির তথ্য প্রকাশের পর ১৬ মে বৃহস্পতিবার এ ঘটনা তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ রোববার তাদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হবে। জানতে চাইলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নেব। যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার ইনকিলাবকে বলেন, এ ধরনের একটি বিষয় আমাদের দৃষ্টিতে আসার পর দরদাম ও অন্যান্য বিষয় দেখার জন্য কমিটি গঠন করে দিয়েছিলাম। এরপর তারা কী করেছে, তা এ মুহূর্তে বলতে পারছি না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, এমন ঘটনা যদি সত্য হয় তা তো খুবই বিপদের কথা। এমন হরিলুট চলছে অথচ দেখার কেউ নেই, শোনার কেউ নেই, কোনো স্বচ্ছতা নেই। দেশে বর্তমানে কোনো কিছুই স্বচ্ছ নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর অর্থনীতিবিদ খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ঘটনার সত্যতা যদি থাকে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে। যদি এমন দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া হয় তাহলে দুর্নীতির অবস্থা দিনে দিনে বাড়তে থাকবে। টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখের এবং উদ্বেগের বিষয়। কারণ সরকারের এত বড় হাই-প্রোফাইলের একটি প্রকল্পের একটি অংশে এত বড় দুর্নীতির বিষয়টি সবাইকে ভাবিয়ে তোলে। এ ধরনের অস্বচ্ছতার কারণগুলো হচ্ছে কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ না থাকা।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে কেনাকাটা নিয়ে ঘটেছে অকল্পনীয় সমুদ্রচুরির ঘটনা। প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য নির্মিত ভবনে আসবাবপত্র কেনা আর তা ফ্ল্যাটে ওঠানোর খরচ দেখে সবাই হতবাক! সরকারি অর্থের এমন বেহিসাবি সাগরচুরি কারবারে সোশ্যাল মিডিয়াতেও বইছে ঝড়। কেউ কেউ কৌতুক করে বলছেন, বাহুবলি সিনেমার নায়কও বাংলাদেশে আসছেন, বালিশ তোলার কাজ করতে। অনেকে আবার বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জাত ব্যবসায়ী। তিনি যদি খবর পান বালিশ ফ্ল্যাটে ওঠায় এত টাকা, তাহলে তিনি বাংলাদেশে আসতে পারেন।

কেউ লিছেছেন দেশের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের উচিত বিসিএসের পড়াশোনা বাদ দিয়ে বালিশ তোলার কাজ খোঁজা। কেউ লিখেছেন, উচ্চশিক্ষিত ছেলেমেয়েদের এখন রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালকের গাড়ির ড্রাইভার, বাগানের মালীর লোভনীয় পদের জন্য পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়া উচিত। বিশিষ্টজনেরা বলছেন, সরকারি অর্থের হরিলুট হচ্ছে, এটা বিভিন্ন সময় প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু এমন অবিশ্বাস্য কাহিনী এটা একেবারেই মেনে নেয়া যায় না। বিষয়টি তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে কর্মরতদের ফ্ল্যাটের জন্য বিভিন্ন জিনিসপত্র ক্রয় এবং তা ফ্ল্যাটে উঠাতে খরচে একবার চোখ বুলিয়ে দেখা যাক। এসব পণ্য ক্রয় করেছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের পাবনা পূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা। প্রতিটি বালিশ কেনায় খরচ পড়েছে ৫৯৫৭ টাকা। আর প্রতিটি বালিশ ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ হয়েছে ৭৬০ টাকা। প্রতিটি বিছানা কেনায় ব্যয় দেখানো হয়েছে ৫৯৮৬ টাকা। আর ফ্ল্যাটে ওঠানোর ব্যয় দেখানো হয়েছে ৯৩১ টাকা। চাদর ও বালিশ কেনা হয়েছে ৩৩০টি করে। প্রতিটি খাট কেনায় খরচ হয়েছে ৪৩৩৫৭ টাকা। আর ওঠানোর ব্যয় ১০৭৭৩ টাকা। সর্বমোট খাট কেনা হয়েছে ১১০টি। একটি বৈদ্যুতিক চুলা কেনার খরচ পড়েছে ৭৭৪৭ টাকা। আর ওই চুলা ওঠাতে ব্যয় হয়েছে ৬৬৫০ টাকা। প্রতিটি বৈদ্যুতিক কেটলি কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে ৫৩১৩ টাকা। আর ওঠানোর খরচ ২৯৪৫ টাকা।

রুম পরিষ্কারের একটি মেশিন কিনতে সংশ্লিষ্টরা খরচ দেখিয়েছে ১২০১৮ টাকা। আর ওঠাতে খরচ দেখিয়েছে ৬৬৫০ টাকা। প্রতিটি ইলেকট্রিক আয়রন কিনতে খরচ পড়েছে ৪১৫৪ টাকা। আর ওঠানোর খরচ ২৯৪৫ টাকা। টেলিভিশন প্রতিটির দাম ৮৬৯৬০ টাকা। আর ওঠানোর খরচ ৭৬৩৮ টাকা। টেলিভিশন কেনা হয়েছে ১১০টি। সেগুলো রাখার জন্য আবার কেবিনেট করা হয়েছে ৫২ হাজার ৩৭৮ টাকা করে। ফ্রিজের দাম দেখানো হয়েছে প্রতিটি ৯৪২৫০ টাকা। আর ওঠাতে খরচ পড়েছে ১২৫২১ টাকা। ওয়ারড্রোব প্রতিটি কেনায় খরচ দেখানো হয়েছে ৫৯৮৫৮ টাকা। ওঠাতে খরচ পড়েছে ১৭৪৯৯ টাকা। মাইক্রোওয়েভ প্রতিটি কেনায় ব্যয় ৩৮২৭৪ টাকা। খরচ হয়েছে ৬৮৪০ টাকা।

প্রতিটি সোফা কেনা হয়েছে ৭৪ হাজার ৫০৯ টাকায়, ভবনে ওঠাতে খরচ হয়েছে ২৪ হাজার ২৪৪ টাকা করে। ১৪ হাজার ৫৬১ টাকা করে কেনা সেন্টার টেবিলের প্রত্যেকটি ভবনে তুলতে লেগেছে ২ হাজার ৪৮৯ টাকা। ছয়টি চেয়ারসহ ডাইনিং টেবিলের প্রতিটি সেট কেনা হয়েছে এক লাখ ১৪ হাজার ৬৭৪ টাকায়। ভবনে তুলতে লেগেছে ২১ হাজার ৩৭৫ টাকা করে।

সরকারি টাকার এই রেকর্ড লুটপাটে নাম এসেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের আওতায় মূল প্রকল্প এলাকার বাইরে গ্রিন সিটি আবাসন পল্লীর। ওই পল্লীতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য ২০ তলা ১১টি ও ১৬ তলা আটটি ভবন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ২০ তলা ৮টি ও ১৬ তলা একটি ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। নির্মাণ সম্পন্ন হওয়া ৯টি ভবনের ৯৬৬টি ফ্ল্যাটের জন্য আসবাবপত্র কেনা শেষ হয়েছে। এর মধ্যে একটি ২০ তলা ভবনের ১১০টি ফ্ল্যাটের আসবাবপত্র কেনা ও তা ভবনে ওঠাতে সব মিলে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা। প্রকল্পের নথি বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে দাম আর ওঠানোর ওই রেকর্ড। তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন নিয়ম মেনেই কেনাকাটা করা হয়েছে।

চলুন জেনে নিই এই প্রকল্পে কর্মরতদের বেতন কাঠামো। এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের মাসিক বেতন ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। পাশাপাশি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন এজন্য আরো ২ লাখ টাকা পাবেন। সব মিলিয়ে তিনি পাবেন ৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। প্রকল্প পরিচালকের গাড়ি চালকের বেতন ধরা হয়েছে ৭৩ হাজার ৭০৮ টাকা। অথচ বর্তমানে সচিবের বেতন ৭৮ হাজার টাকা। রাঁধুনী আর মালীর বেতন ৬৩ হাজার ৭০৮ টাকা।

একইভাবে উপপ্রকল্প পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালকসহ অন্যসব পদেই অস্বাভাবিক বেতন-ভাতা ধরা হয়েছে। বেতন ছাড়াও আরো কয়েকটি খাতে অস্বাভাবিক ব্যয় ধরে চূড়ান্ত করা হয়েছে। ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৪ কোটি টাকার এ সংক্রান্ত উন্নয় প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ওঠার কথা রয়েছে। পাস হওয়ার পর ব্যয়ের দিক থেকে এটিই হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রকল্প, যা পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রায় চার গুণ।

ডিপিপি অনুযায়ী, ৩৬৯ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন ও ভাতা হিসেবে ৬৯৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে বেতন ৩৬ শতাংশ এবং ভাতা ধরা হয়েছে ৬৪ শতাংশ। সরকারি বেতন কাঠামোর গ্রেড অনুসরণ না করে ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্প পরিচালকসহ ১৬টি পর্যায়ে বেতন-ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো ধরা হয়েছে। এর মধ্যে প্রকল্প পরিচালক পাবেন ৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকা বেতন; যা সচিবের বেতনের প্রায় ৯ গুণ।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক পাবেন তিন লাখ ৬৩ হাজার টাকা। তিনি প্রকল্পের স্টেশন ডিরেক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এজন্য অতিরিক্ত এক লাখ ৮০ হাজার টাকা পাবেন তিনি। এতে তার মোট বেতন দাঁড়াবে ৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। প্রকল্পের রাশিয়া অফিসের পরিচালকের বেতন ধরা হয়েছে ৩ লাখ ২১ হাজার টাকা করে। প্রকল্পের সাত বিভাগের সাতজন প্রধানের বেতনেও ৩ লাখ ২১ হাজার টাকা। কারিগরি ও প্রশাসনিক অন্যান্য পদের বেতনও অনেক বেশি ধরা হয়েছে। এ ছাড়াও বেতনের বাইরে বার্ষিক সর্বোচ্চ ৩ মাসের মূল বেতনের সমান চিকিৎসা ভাতা, মাসিক ৩ থেকে ৬ হাজার টাকা যাতায়াত ভাড়া, মাসিক ১০ থেকে ১৫ হাজার সন্তানদের শিক্ষা ভাতা, মূল বেতনের ৪০ শতাংশ হারে মাসিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং তেজস্ক্রিয় ভাতা এবং ২০ শতাংশ হারে শিফট ভাতা ও বিদ্যুৎ বিল ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পটির কর্মকর্তা পর্যায়ে সর্বনিম্নে বেতন ধরা হয়েছে এক লাখ তিন হাজার টাকা। বিভিন্ন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা প্রতি মাসে এ হারে বেতন পাবেন। এর বাইরে তিনি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ থেকে অতিরিক্ত ৪৫ হাজার টাকা বেতন পাবেন। অর্থাৎ তার মোট বেতনের পরিমাণ দাঁড়াবে এক লাখ ৪৮ হাজার টাকা।

জানতে চাইলে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলম বলেন, প্রকল্পটির বেতন-ভাতা সরকারি স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন ও অনিয়ন্ত্রিত। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অন্যান্য ব্যয় নিয়েও এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সম্ভাবতা যাচাই স্পষ্ট নয়, ইআইএ নিয়ে লুকোচুরি, স্পেন্ট ফুয়েল (অবশিষ্ট তেজস্ক্রিয় জ্বালানি) ইস্যুর সমাধান হয়নি। এরই মধ্যে প্রকল্পটি অনুমোদন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আগে প্রকল্পের ব্যয়সহ বিতর্কিত ইস্যুগুলো সমাধান করা দরকার।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, এমন ঘটনা যদি সত্য হয় তাহলে তো খুবই বিপদের কথা। এমন হরিলুট চলছে অথচ দেখার কেউ নেই, শোনার কেউ নেই, কোনো স্বচ্ছতা নেই। তা তো পরিষ্কার। দেশে বর্তমানে কোনো কিছুই স্বচ্ছ নয়। দেখেন সংসদে যে কাজগুলো করার কথা সেগুলো হচ্ছে কি না। দেশে আইনের শাসন আছে কি না। এসব ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছা থাকতে হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে সেগুলোর দিকে নজর দিতে হবে। পার্লামেন্টের কমিটিগুলোকে অ্যাক্টিভ করতে হবে। যে পার্লামেন্টে বিরোধী দল থাকে না, সে পার্লামেন্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। পার্লামেন্টে কোনো বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা হয় না।

ওয়াকআউট হয় না, কোনো প্রশ্ন হয় না, নিয়ম, অনিয়ম নিয়ে কথা হয় না। তাহলে তো এমন অবস্থা হবেই। সরকারের উচিত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। এত উন্নয়ন এভাবে না করে টেকসই উন্নয়ন করা উচিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর অর্থনীতিবিদ খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ঘটনার সত্যতা যদি থাকে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে। আর যদি এমন দুর্নীতির ব্যবস্থা না নেয়া হয় তাহলে দুর্নীতির অবস্থা দিনে দিনে বাড়তে থাকবে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ ধরনের ঘটনা অন্ত্যত দুঃখের এবং উদ্বেগের বিষয়। কারণ সরকারের এত বড় হাই প্রোফাইলের একটি প্রকল্পের একটি অংশে এত বড় দুর্নীতির বিষয়টি সবাইকে ভাবিয়ে তোলে। এধরনের অস্বচ্ছতার কারণগুলো হচ্ছে কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ না থাকা।

নির্মাণাধীন দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য নির্মিত গ্রিন সিটিতে আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিস ক্রয়ে লাগামছাড়া দুর্নীতির তথ্য ফাঁস হয়েছে। সরকারি টাকায় আকাশ সমান দামে এসব আসবাবপত্র কেনার পর তা ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে তুলতে অস্বাভাবিক হারে অর্থ ব্যয়ের এ ঘটনা ঘটিয়েছেন গণপূর্ত অধিদফতরের পাবনা গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা। শুধু আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে ওঠাতে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (প্রাথমিক পর্যায়) প্রকল্প পরিচালক শওকত আকবর বলেন, পরিকল্পনা কমিশন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাবে কয়েকটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। এতে সংস্থাটির নিজস্ব যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। তবে প্রকল্পের কোনো খাতেই অযৌক্তিক ব্যয় ধরা হয়নি। আর কর্মকর্তাদের বেতন নিয়ে যে কথা বলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। এখানে আকর্ষণীয় বেতন না দিলে কেউ চাকরি করতে আসবে না। সব দিক বিবেচনা করেই এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে সব প্রশ্নের জবাব কমিশনে তুলে ধরা হবে।

Leave a Comment