সরকারি গাছ কেটে আ’লীগ নেতার পেট্রোল পাম্প

Spread the love

ডেস্ক রিপোটঃ বরিশালের গৌরনদী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান ফরহাদ মুন্সির বিরুদ্ধে উপজেলার তাঁরাকুপি গ্রামে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে সামাজিক বনায়নের ৫টি রেইন্ট্রি গাছ অবৈধভাবে কর্তন করে ফিলিং স্টেশনের (পেট্রোল পাম্পের) সড়ক নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গৌরনদী উপজেলার তাঁরাকুপি গ্রামে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক ঘেষে আরিফ ফিলিং স্টেশনের নির্মাণ কাজ চলছে দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু ফিলিং স্টেশনের সড়কের কাজ থেমে থাকে সংলগ্ন ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সামাজিক বনায়নের কয়েকটি গাছ। ওই গাছগুলো কোন ভাবেই সরাতে পারছিল না তারা। রাতের আধাঁরে ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সী ছোটবড় ২টি রেইন্ট্রি গাছ কেটে মাটি খুড়ে গাছের গোড়া উপড়ে ফিলিং স্টেশনের সড়কের নির্মাণ কাজ করেছে তারা।

উপজেলা বন কর্মকর্তার কাছে একটি আবেদন করে ফিলিং স্টেশনের ২ জন মালিক শ্রমিক দিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে ফিলিং স্টেশনের প্রবেশদ্বারের দু’পাশের ৩টি রেইন্ট্রি গাছ কেটে ফেলছে। গাছ ৩টির কারণে ফিলিং স্টেশনের (পেট্রোল পাম্পে) যানবাহন প্রবেশের কোন অসুবিধা না হলেও পেট্রোল পাম্পটির শ্রীবৃদ্ধি জন্য উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নিজের ব্যবসার সুবিধার্থে সরকারি নীতিমালাকে উপেক্ষা করে উপজেলা বন কর্মকর্তার যোগসাজশে টেন্ডার ছাড়াই মঙ্গলবার সকালে গাছকাটা শ্রমিক দিয়ে ৩টি রেইন্ট্রি গাছ কেটে অপসারণ করেছে। প্রায় অর্ধলাখ টাকা মূল্যের ৫টি রেইন্ট্রি কেটে ফেলেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালেদা নাসরিন জানান, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী গাছ কাটতে হলে উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় প্রস্তাব উপস্থাপন করে তা পাশ করতে হবে। এরপর সভার রেজুলেশন মোতাবেক প্রকাশ্য টেন্ডার আহবান করে তা বিক্রি করতে হবে। অথচ উপজেলা বন কর্মকর্তা মাসিক সভার অনুমোদন ছাড়াই কি ভাবে ভাইস চেয়ারম্যানকে গাছ কাটার অনুমতি দিলেন তা আমার জানা নেই।

উপজেলা বন কর্মকর্তা মনিন্দ্রনাথ হালদার জানান, গাছ ৩টির কারণে পাম্পের লাইটপোষ্টের আলোতে ছায়া পড়ছিল। এ কারণে ভাইস চেয়ারম্যান গাছ ৩টি অপসারণের আবেদন করায় আমরা গাছ তিনটি অপসারণ করার অনুমতি দিয়েছি। এখন সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী সমিতির সভাপতি শওকত বেপারীর জিম্মায় কাটা গাছগুলো রাখা হবে।

তবে আনীত অভিযোগ সমূলে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান ফরহাদ মুন্সি বলেন, গাছ কেটে নেয়ার জন্য উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তার কাছে গত তিনমাস পূর্বে আবেদন করা হয়েছিল।

সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা ও সামাজিক বনায়নের সভাপতি তাদের শ্রমিক দিয়ে তারা গাছ কেটে নিয়েছে। আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য একটি মহল মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

Leave a Comment