রাজাপুরে অবৈধ ইট পাজায় পরিবেশ দুষন : দেখার কেউ নেই!

Spread the love

কামরুল হাসান মুরাদ:: ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলায় দেদারছে চলছে অবৈধ ইট পাজা। আইন অমান্য করে বনভূমি উজাড় করে স্থাপন করা হয়েছে দুই শতাধিক অবৈধ ইটের পাঁজা(ইট ভাটা)। তারা নিজেদের খেয়াল-খুশি মতো আবাসিক জনবসতি,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে,কৃষি জমি ও সড়কের পাশে ইটের পাজা-ক্লিন ভাটা স্থাপন করে ব্যবসা করছেন। এসব ইটের পাজায় পোড়ানো হচ্ছে মূল্যবান বনজ,ফলদ ও ঔষধি গাছ। উজার হচ্ছে বনজ ও স্থানীয় গাছপালা। এ উপজেলায় খেঁজুর গাছ ও এর রস এখন গল্পে পরিনত হচ্ছে। সব খেজুর গাছ পাজায় পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। ফলে পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতেছে।
এসব পরিবেশ দেখে মনে হয় এখানে সরকারি কোনো আইন চলে না, চলে পাঁজা মালিকদের নিজস্ব আইন-কানুন। পাঁজার বিষাক্ত ধুলা বালি, কালো ধোঁয়া ও আগুনের তাপে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এলাকার সবুজ বনজ সম্পদ এবং মাতৃত্ব হারাচ্ছে ফলদ গাছ। পাজার আগুনের তাপে উর্বরতা হাড়িয়ে দিন দিন অভিশপ্ত মরুভুমিতে পরিনত হচ্ছে ফসলি জমি। শ্বাস কষ্টজনিত রোগে ভুগছেন ভাটা এলাকার শিশুসহ সব বয়সের মানুষ। বির্পযয়ের মুখে পড়ছে এলাকার জনস্বাস্থ্য। পাজাগুলো লোকালয়ের একেবারে কাছে হওয়ায় চরম মূল্য দিতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। ইট পোড়ানোর ঝাজালো উৎকট গন্ধে ভারি হয়ে আসে এখানকার বাতাস। এসকল পাজায় ব্যবহার করা হচ্ছে জ্বালানি কাঠসহ হাজার হাজার মন বিভিন্ন প্রকার দেশীয় জ্বালানি কাঠ। পরিবেশ সংরক্ষন আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুগুলী দেখিয়ে কৃষি জমিতেই এক শ্রেনীর প্রভাবশালীরা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এসব ইটভাটা ও পাজা অনেকটা বাঁধাহীনভাবেই নির্মান করে চলছে। সচেতন মহলের দাবি ইটপাজার নির্গত ধোঁয়ায় বায়ু দূষিত হয়ে নানা রোগ ব্যাধিসহ কৃষিতে বিরুপ প্রতিক্রিয়া পড়ছে।
জানা গেছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রতি বছর লোক দেখানো দায়সারা অভিযান পরিচালনা করায় বন্ধ হচ্ছে না এসব অবৈধ ইট পাজা। চলতি বছরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইট পোড়ানোর জন্য দুই শতাধিক ইট ভাটার পাজা স্থাপন করা হয়েছে ঘন বসতি এলাকাসহ ফসলি জমিতে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা বেগম পারুল জানান, রাজাপুরে ইট পাঁজাগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হবে। অবৈধভাবে ইট পাঁজার কেউ ছাড় পাবে না।

Leave a Comment