রাজাপুরের অসহায় বৃদ্ধা লালমতি বেগমের কান্না পুত্র নাতনি নিয়ে থাকেন মসজিদের বারান্দায়

Spread the love

রাজাপুরের অসহায় বৃদ্ধা লালমতি বেগমের কান্না
পুত্র নাতনি নিয়ে থাকেন মসজিদের বারান্দায়

লালমতি বেগমের স্বামী মারা গেছেন অনেক বছর আগে। ২ পুত্র সন্তান নিয়ে তার জীবন অতিবাহিত করছিলো। সামান্য কিছু জমির উপর শুধু বসতভিটায় বসবাস করতেন। পুত্রের দিনমজুরের আয়ে চলতো তাদের সংসার। তারপরেও স্বাভাবিকভাবেই চলছিলো তাঁদের জীবন যাত্রা। এতে বাধা হয়ে দাড়ায় প্রভাবশালী প্রতিবেশীর লোলুপ দৃষ্টি। জনবল ও আর্থিক দু’ভাবেই বলিয়ান তারা। তাদের সাথে কোনভাবে এগোতে পারছেন না সন্তানদের নিয়ে বসবাসকারী বিধবা বৃদ্ধা লালমতি বেগম। বসতভিটা থেকে উৎখাত করে দখলে নিতে শুরু করে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র। একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে পরিবারকে দিশেহারা করে প্রতিবেশি প্রভাবশালী প্রতিপক্ষ পরিবার। এতে দিনমজুর পরিবার উপায়হীন হয়ে পড়ে। একদিকে একদিন কাজ না করলে অর্ধাহারে/অনাহারে দিন কাটাতে হয়, অন্যদিকে আদালতের নির্ধারিত তারিখে হাজিরা দিতে হয়। দুটির সমন্বয় করতে না পারায় একটি মামলায় লালমতি বেগম ও তার পুত্রের নামে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী হয়। তারা পলাতক অবস্থায় পরবর্তি তারিখের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। ইতিমধ্যে সুযোগবুঝে দিনের বেলায় একটি ঘর ভাংচুর করে সরিয়ে নেয়। বসবাসের জন্য দূরবর্তি একটি ঘর তাও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। স্থানীয়রা সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে ঘরটি পুড়ে তিন চতুর্থাংশ পুড়ে যায়। বর্তমানে বসবাসের কোন ব্যবস্থা না থাকায় এলাকার বিভিন্ন ঘরে দিন যাপন ও তাদের সহযোগিতায় অর্ধাহারে/অনাহারে দিন অতিবাহিত করতে হচ্ছে। অনেক সময় পুত্র নাতি নিয়ে মসজিদের বারান্দায় বসবাস করতে হচ্ছে। একারনে পুত্র শ্রমজীবী আনোয়ার হোসেন আকন’র স্ত্রী পাখি বেগমও স্বামীর সংসার ও ১টি কন্যা সন্তান রেখে অন্যত্র চলে গেছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে এসব কথা বলেন রাজাপুর উপজেলার পুটিয়াখালী গ্রামের মৃত. আজাহার আকনের স্ত্রী বৃদ্ধা লালমতি বেগম। অপরদিকে গত বছরের ২৪ অক্টোবর বাড়িঘর ভাংচুরের অভিযোগে আনোয়ার হোসেন আকনের স্ত্রী পাখি বেগম বাদী হয়ে রাজাপুর থানায় একটি মামলা (নং-০৫) দায়ের করেন। এসআই ফিরোজ আলম ওই মামলাটি তদন্ত করতে গেলে বাদী পাখি বেগমের প্রতিবেশী প্রভাবশালী প্রতিপক্ষ জাহিদ আকন (৩২), মোসাঃ হাবিবা বেগম (২৩), মনির আকন (২৫), মোসাঃ আসমা আক্তার (২১), মাওলানা মোঃ আব্দুল হক (৬৫), মারিয়া বেগম (৫৫), মোসাঃ ফাতিমা বেগম (২০), মোসাঃ সুমী বেগম (২৫)সহ আরো অজ্ঞাত ১০/১২জন সঙ্গীয় কনস্টেবল সাহেব আলীর উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় তারা মারধর করে এসআই ফিরোজ আলম ও কনস্টেবল সাহেব আলীকে গুরুতর আহত করে। এঘটনায় এসআই ফিরোজ আলম বাদী হয়ে রাজাপুর থানায় মামলা (নং-০৬, তারিখ-২৪-১০-১৯ইং) দায়ের করেন। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন আছে। 
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ ফারুক মোল্লা জানান, জমি সংক্রান্ত বিষয়ে জালিয়াতি করে ভাই আজাহার আলী আকনকে ঠকিয়েছে মাওলানা আব্দুল হক ওরফে এজাহার আলী। একারণে মূলত দ্বন্দ্ব। মাওলানা আব্দুল হক ওরফে এজাহার আলী আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হওয়ায় তারা ভাই মৃত. আজাহার আলীর পরিবারকে উৎখাত করতে নানানভাবে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। আমরা একাধিকবার শালিস মিমাংসায় বসেও কোন সুরাহা করতে পারি নাই।

Leave a Comment