ব্রহ্মপুত্রে বাড়ছে বানের জল ফুলছড়িতে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি দূর্ভোগে পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ

Spread the love

ডেস্ক রিপোর্ট:

টানা বর্ষণ আর উজানের পাহাড়ি ঢলে হু হু করে বাড়ছে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি। তলিয়ে গেছে হাজার হাজার বাড়িঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ক্রমেই অবনতির দিকে বন্যা পরিস্থিতি। বন্যার জলে ডুবে যাওয়া বাড়ি ঘর ছেড়ে গবাদি পশু আর স্ত্রী নিয়ে অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে।ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ি, ফুলছড়ি, ফজলুপুর, গজারিয়া, উড়িয়া ও কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ৪০ টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সেই সাথে পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে শত শত হেক্টর ফসলি জমি।পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেওয়া শুরু করেছেন। কেউ কেউ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাচ্ছেন, কেউ বাঁধে আশ্রয় নিচ্ছেন আবার কেউ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিচ্ছেন। এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট ও পয়ঃনিষ্কাশন সমস্যা।এদিকে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চলের মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে ডাকাত আতঙ্ক।ফজলুপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জালাল বলেন, পানি বৃদ্ধির ফলে চরাঞ্চলের মানুষ প্রতিনিয়ত ডাকাতের আতঙ্কে ভুগছে। তিনি পুলিশের নৌ- টহল জোড়দারের দাবী জানান।ফুলছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাওছার আলী বলেন, আমরা ইতিমধ্যে নদীতে নৌ-টহল জোড়দার করেছি। নৌ-ডাকাতি প্রতিরোধে রাতে দিনে পালাক্রমে পুলিশ টহল দিচ্ছে।ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রায়হান দোলন বলেন, বাঁধে আশ্রিত পরিবার গুলোর সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। বন্যা কবলিতদের সহযোগিতা করার জন্য উপজেলা প্রশাসন সবসময় প্রস্তুত আছে। এছাড়া বিশুদ্ধ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ কে এম ইদ্রিস আলী বলেন, এ পর্যন্ত জেলায় ৬০ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে এর মধ্যে ফুলছড়ি, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ, ও গাইবান্ধা সদরসহ প্রত্যেক উপজেলায় ২৫ মেট্রিক টন করে চাল এবং ১ লক্ষ ৭৫ হাজার করে টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণসামগ্রী মজুদ আছে এবং বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে।পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় ১৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৮২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

Leave a Comment