বাঘায় এক হাজার মণ ভেজাল গুড় জব্দ, জরিমানা

Spread the love

ডেস্ক রিপোর্ট:

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌর বাজারে আখের গুড় বিক্রির সময় ৪৮টি ভ্যান আটকসহ দু’টি গ্রামে অভিযান চালিয়ে পাঁচটি ভেজাল গুড়ের কারখানা চিহ্নত করেছে র‌্যাব। এ অভিযানে প্রায় এক হাজার মণ গুড় জব্দ করা হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত আমান এসে চার জন গুড় প্রস্তুতকারীর কাছ থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। সেই সঙ্গে জব্দ গুড় আড়ানী বাজার সংলগ্ন বড়াল নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করেন রাজশাহী র‌্যাব-৫ এর এএসপি সজল আহাম্মেদ ও এএসপি জামিল হোসেন। 

রাজশাহী র‌্যাব ৫ এর (এ.এস.পি) সজল আহাম্মেদ ও জামিল হোসেন জানান, বাঘা উপজেলা আড়ানী পৌর এলাকা এবং বাউসা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে ভেজাল গুড় তৈরির শতাধিক কারখানা আছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত আড়ানী বাজারে অভিযান চালিয়ে ৪৮টি ভেজাল গুড়ের ভ্যান আটক করেন তারা। এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খোদ্দ বাউসা এলাকার রাজন আলী (৩৫) ও তার ভাই সুজন আলী (৩০) এবং তার চাচা সাত্তার শার (৫৫) ভেজাল গুড় তৈরির কারখানায় আভিযান চালানো হয়। সেখানে গুড় তৈরির উপকরণ হিসাবে একাধিক সরঞ্জাম ও কেমিক্যাল জব্দ করা হয়। এ সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সাত্তার আলী পালিয়ে যান। তবে আটকে পড়েন তার দুই ভাতিজা। পরে জেলা ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত আমান আটক দুই জনেরস্বীকারোক্তি শুনে উভয়ের ৫০ হাজার করে এক লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।  

এর আগে আড়ানী পৌর এলাকার সাহাপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে ভেজাল গুড়সহ আটক করা হয় জাহেদ আলী (৫৫) এবং ভ্যান চালক জালালকে। এ সময় তারা অপরাধ স্বীকার করলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাদের কাছ থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করেন। 

রাজশাহী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত আমান বলেন,  আটক চারজনের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এক লাখ ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ভেজাল গুড়ের কারখানা এবং হাটে যে সব গুড় জব্দ করা হয়েছিল তার সবই বাজার সংলগ্ন বড়াল নদীতে ধ্বংস করা হয়েছে।

Leave a Comment