বর্ষাকালকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠীতে জমে উঠেছে চাঁই হাট

Spread the love

বর্ষাকালকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠীতে জমে উঠেছে চাঁই হাট 
মিলন সরদার ঝালকাঠি: ঋতু পরিক্রমায় প্রকৃতির খালে বিলে আসছে জোয়ার ও বর্ষার পানি। নতুন পানিতে ছোটাছুটি শুরু করেছে চিড়িং, বাইলা সহ দেশিয় প্রজাতির নানান মাছ। সেই মাছ ধরাকে উপলক্ষ করে স্বরূপকাঠীতে বিভিন্ন হাট-বাজারে জমে উঠেছে চাঁইয়ের হাট। এ উপজেলার বৃহৎ চাঁইয়ের হাট বসে আটঘর কুড়িয়ানায় মানপাশা বাজারের খালে জলে রাস্তার পাশে। মৌসুমের প্রতি সোম ও শুক্রবার বসে উপজেলার এ ঐতিহ্যবাহি বিখ্যাত চাঁইয়ের হাট। প্রতি হাটে কয়েক লক্ষাধিক টাকার চাঁই বিক্রি হয় এখানে। এক কুড়ি(২০টি) চাঁই ২হাজার পাঁচশত টাকা থেকে ৩ হাজার পাঁচশত টাকা দামে বিক্রি হয়ে থাকে। অত্র উপজেলার বিভিন্ন এলাকাসহ পাশ্ববর্তী বিভিন্ন জায়গা থেকে চাঁই কিনতে লোকেরা আসে হাটে। হাটে এসে একসাথে অনেকগুলো চাঁই কিনে নৌকা, ভ্যানগাড়ী ও নসিমন করে চাঁইয়ের উপর চাঁই সাজিয়ে নিয়ে যান দূর-দূরান্তে। বাংলা মাসের জৈষ্ঠ্য থেকে শুরু করে ভরা ভাদ্র মাস পর্যন্ত চলে চাঁই বিকিকিনি। এ উপজেলার আটঘরে কয়েক যুগ ধরে চলে আসা এই চাঁই ব্যবসাকে ঘিরে এসময়ে ঘটে নানান মানুষের কর্মসংস্থান।

মৌসুম শুরুর প্রায় মাস দেড়েক পূর্ব থেকেই কাঁচা বাঁশ সংগ্রহ করে চাঁই বুনন করে থাকেন কারিগররা। সাধারণত এ পেশার সাথে জড়িত সবাই গৃহস্থলীর অন্যান্য কাজের ফাঁকে এ কাজ করে থাকেন। মূলত হিন্দু পরিবারের লোকজন এ পেশার সাথে বেশি সম্পৃক্ত। এখানকার হাটে বাজারে ওঠা বেশিরভাগ চিংড়ি মাছ আহরিত হয়ে থাকে এ চাঁই থেকে। আর এ জন্য গ্রামের বিভিন্ন হাটবাজরে বসে চিংড়ি মাছের অস্থায়ি ডিপো। চাঁই দিয়ে মৎস্য আহরণকারীরা মাছ ধরে এনে প্রতিদিন ডিপো গুলোতে বিক্রি করে থাকেন। ডিপো থেকে আবার প্রতিদিন এ মাছ রাজধানী ঢাকাসহ চলে যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে।

Leave a Comment