পলিথিনের ঘরে থেকেও মমেনার ভাগ্যে জোটেনি সরকারি ঘর

Spread the love

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে পলিথিনের ঘরে থেকেও অসহায় মমেনা বেওয়ার (৬৫) ভাগ্যে জোটেনি বিধবা ভাতা বা সরকারি ঘর।

মমেনা বেওয়া উপজেলার নন্দিরকুটি গ্রামের মৃত কপুর উদ্দিনের স্ত্রী। এক ছেলে এবং এক মেয়ে থাকলেও কেউ খোঁজ রাখেননি তার। মেয়েটিকে অনেক কষ্ট করে বিয়ে দিয়েছেন। স্বামীকে হারিয়েছেন ত্রিশ বছর পূর্বে। মাকে ফেলে ছেলে মমিনুল স্ত্রী সন্তান নিয়ে আলাদাভাবে সংসার করছেন।

আজ সোমবার (১৯ আগস্ট) মমেনা বেওয়ার বাড়িতে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, একমাত্র ছেলের ঘরটি তালাবদ্ধ। মমেনা বেওয়া কোনও রকমে পলিথিন দিয়ে তৈরি ছোট একটি ঝুঁপড়ি ঘরে থাকেন। নেই ঘরের বেড়া। ঝুঁপড়ি ঘরের এক দিকে রান্না বান্না, অন্যদিকে থাকার বিছানা। যেদিন রাতে বৃষ্টি আসে সেদিন বিছানার এক কোণে বসে রাত কাটান তিনি। বৃষ্টির পানিতে সব কিছু ভিজে যায়। বর্তমানে তার মানবেতর জীবন-যাপন। দেখার কেউ নেই।

মমেনা বেওয়া কান্না জড়িত কন্ঠে জুমবাংলাকে জানান, বাহে মোর কিছুই নেই। ত্রিশ বছর আগে স্বামীকে হারাইছোং। মেয়েটা স্বামীর সংসারে ব্যস্ত। একমাত্র ছেলেটাও মোর খোঁজ রাখে না। স্ত্রী সন্তান নিয়ে আলাদা সংসারে থাকে। মুই বিশ বছর ধরি বৃদ্ধা বয়সে মানুষের বাড়িতে দিন মজুরি ও ঝিয়ের কাজ-কামাই করি বাছি আছোং। স্বামী মরিয়া মোর কপালোৎ জোটেনি বিধবা ভাতা বা একটি সরকারি ঘর।

স্থানীয় নুরজাহান, এরশাদুল ও শহিদুল জুমবাংলাকে জানান, মমেনা বেওয়া হতদরিদ্র। ভাতা ও সরকারি ঘর পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু কোনও কিছুই জোটেনি তার ভাগ্যে।

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোছা. মাছুমা আরেফিন জুমবাংলাকে জানান, নতুন ঘরের বরাদ্দ আসলে মমেনা বেওয়াকে একটি ঘর দেয়া হবে। সেই সাথে ভাতার জন্য আবেদন করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Comment