পটুয়াখালীতে ২০ হাজার মানুষ এখন সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মী

Spread the love

ডেস্ক রিপোটঃ পটুয়াখালীর বাউফলের ধুলিয়া ইউনিয়ন এখন সন্ত্রাসের জনপথে পরিণত হয়েছে। বিএনপির সময়ে এ ইউনিয়নের মানুষ অত্যাচারিত হয়েছে। বর্তমানে ও অত্যাচারিত হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেনা। কেউ করলে তারা উপর নির্যাতনের খরগ নেমে আসে। বাউফল সদর উপজেলা থেকে এ ইউনিয়নের দূরত্ব প্রায় পনের কিলোমিটার । এ ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার লোকের বসবাস। এখানকার অধিকাংশ মানুষ তেঁতুলিয়ার রুদ্ররোষে পরে সহায় সম্বল হারিয়ে তারা এখন নিঃস্ব প্রায়।

জীবন বাঁচানোর তাগিদে বেছে নিয়েছে জাল ও নৌকা । নদীতে জাল পাতলে হলে জেলেদের দিতে হয় নিয়মিত চাঁদা। জেগে ওঠা চর বাসুদেব পাশা। এ চরে গরু মহিষ চড়াতে হলে বাৎসরিক চাঁদা দিতে হচ্ছে গো-মহিষপালকদের । আর এ কাজটি করানো হচ্ছে জামায়াত বিএনপি থেকে ভোল্ট পাল্টে আসা ভুমি খেকো হারুন ও আলামিন কারি। তারা ছয় ভাই । ৮০ দশকে তাদের বাবা মৃত নিজাম উদ্দিন ক্বারি ভোলার চর গঙ্গামতির ছোবলে সহায় সম্বল হারিয়ে আশ্রয় নেয় ধুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মৃত মহিউদ্দিনের কাছে । এলাকার মসজিদে মসজিদে কোরাণ শিক্ষা দিতেন মৃত নিজাম উদ্দিন ক্বারি ।

বাবার আদার্শ ও সুনামে মানুষ বিশ্বাসী হয়ে হারুণ ও আলামিন স্থাণীয় জামায়াত বিএনপির নেতাদের ছত্রছায়ায় নেমে পড়ে জবর দখল ব্যবসায় । বাকচতুরতায় বড়ই নিপূণ হারুণ ও আলামিন ক্বারি । প্রথমে মানুষের সরলতায় বিশ্বাসী হয়ে কিছু টাকা ধার দেন অসহায় পরিবারদের। পরে ওই টাকা সুদ হিসাবে জমি লিখে নেন । গড়ে তুলেছেন কোটি টাকার সম্পদ ধুলিয়া ইউনিয়ন সংলঘœ জমি,বাড়ি বেকারি, দোকান প্রতিষ্ঠান ।

হারুণের রয়েছে পাশের উপজেলার গৌবিন্দুপর একটি আড্ডাস্থল। সেখানে রয়েছে তার মাদকের ব্যবসা । এলাকায় তারা জোতদার লাঠিয়াল হিসাবে পরিচিত । ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রব হাওলাদারের আশ্রয় থেকে তারা এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে। চেয়ারম্যান আবদুর রব একসময় বিএনপি করতো । তিনি বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদারের ক্যাডার হিসাবে পরিচিত ছিল ।

২০০১ সালে তার অত্যাচারে এলাকার আওয়ামী লীগ ছিল ঘর ছাড়া। তুচ্ছ ঘটনায় ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর জব্বারের সাথে দ্বন্দ্ব হওয়ায় সংষর্ষে ইউনিয়ন সদস্য আবদুর রব আলোচিত হন। পরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোল্ট পাল্টে সরকার দলীয় সমর্থনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। স্থানীয় আওয়ামীলীগের সাথে মতানৈক্য থাকায় তাদের সায়েস্থা করতে স্থাণীয় জামায়াত ও বিএনপির ক্যাডারদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে । নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে স্থাণীয় ছাত্রলীগ তানজিল,মাহমুদ,দানেশ মাহমুদ ,মনির হোনের নামের,ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নামের এক ডজন নেতা ও কর্মীকে পিটিয়ে কুপিয়ে আহত করেছে তার ক্যাডার বাহিনী। ইউনিয়নের, ভিজিডি, চাল উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিজুস চন্দ্র দে। সরকারি গাছ কেটে নেয়াসহ এন্তার অভিযোগ স্থাণীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের।

তার সেকেন্ড ইনকমান্ড হারুণ ক্বারি। তার রয়েছে জহিরুল, রিয়াজ, নাঈম,সাইদুল ইমরান,কুদ্দুস,নামের ১০-১২জনের একটি লাঠিয়াল বাহিনী। চর বাসুদেব পাশার গরু-মহিষেরে ঘাস খাজনা হিসাবে বছরে দেড়লাখ টাকা করে আদায় করে সে ভোলার কৃষকদের কাছে থেকে। ধুলিয়া নদীর জেলেদের কাছ থেকে অবৈধ চাই পাতাতে হলে বছরে ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হচ্ছে । বেড়, জাল জগৎজাল,কারেন্ট জাল ৫০ হাজার টাকা ,জাটকা মাছ ধরতে হলে তিনমাসে একলাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী জেলেদের অভিযোগ । আর এসব অপকর্মের হোতা হচ্ছে হারুণ ক্বারি ।

স্থাণীয় চেয়ারম্যানের লোক বলে কথা। হারুণের চোখ পড়ে সংখ্যালঘু পরিবার নরেণ চন্দ্র রক্ষিতের পরিবারের ভিটেমাটির ওপর । নরেণ রক্ষিত স্থাণীয় কবিরাজ হিসাবে বেশ নামযস রয়েছে তার । ছোট ভাই বঙ্কিম রক্ষিত আমেরিকা প্রবাসী,চার মেয়ে এক পুত্র। একমাত্র পুত্র দিলিপ রক্ষিত তিন কণ্যা শিল্পি রানী, শিউলী, শিপ্রা ভারতের বারাসাতে বসবাস করছে । বারধ্যক্যের ছোঁয়ার দুর্বলতার আশ্রয় নেয় ভুমি দস্যু হারুণ প্রথমে ধর্ম ভাই ডাকে তার দেখভালের নামে করে আসা যাওয়া করে। পরে কিছু টাকা পয়সা দিয়ে ৩৪ শতাংশ জমি লিখে নেয় সে । গত ১৮ মে সন্ধায় হারুণ তার বাহিনী নিয়ে নরেণ রক্ষিতকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অলিখিত একটি ষ্টাম্পে স্বাক্ষর নেয়। আর ওই রাতেই নরেণ তার বাড়িঘরে তালা লাগিয়ে স্ত্রী বীণা রানী রক্ষিতকে নিয়ে উধাও হয়ে গেছে । পরে আছে শুণ্য ভিটায় তালাঝুলানো বাড়িটি ।

কিন্তু নেই নরেণ রক্ষিক ও তার স্ত্রী বীণা রানী নেই ভিটেমাটিতে ।এলাকার নরেণ রক্ষিত ও বীণা রানীই নয় । তার হাতে নিগৃহিত হয়েছে সাবেক ইউনিয়ন সদস্য মামুন পালোয়ান,মৃত নাসির উদ্দিনের কন্যা সাবেক (অবঃ) জেলা দায়রা জর্জ রোকেয়া বেগম,৫নং ওয়ার্ডের আনন্দ সাধূ, মৃত রশিদ মিয়া,আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক হেমায়েত উদ্দিন ।

এ বিষয়ে হারুণ ক্বারি জানান, অবৈধ ব্যবসা কিংবা দখল ও মারধরের অভিযোগ সত্য নয়, এটা তার প্রতিপক্ষের রটানো । সে টাকা দিয়ে নরেণের কাছ থেকে জমি ক্রয় করে কবলা সুত্রে মালিক হয়েছেন ।

এ বিষয়ে ধুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুর রব হাওলাদার বলেন , চাঁদাবাজি, নির্যাতন করা এসব তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার, প্রতিপক্ষের লোকজন ছড়াচ্ছে । তবে হারুণ ক্বারি তার বা দলের নাম করে এসব অপরাধ করলে তাকে প্রশাসনের হাতে তুলে দেয়া হবে । এ বিষয়ে ধুলিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি এবং ইউনিয়ন পরষিদের সদস্য আলাউদ্দিন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত জোট সরকারের সময়ে নিগৃহিত এখন অত্যাচারিত হচ্ছি। তার ছেলে ছাত্রলীগ নেতা দানেশ মাহমুদকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে চেয়ারম্যান বাহিনী । এ বিষয়ে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,স্থানীয় লোকজনের মৌখিক অভিযোগ পেয়ে নরেণের বাড়ি পুলিশ পাঠিয়েছি । খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে ।

Leave a Comment