নলছিটিতে বিদ্যালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে প্রধান শিক্ষককে শোকজ

Spread the love

নলছিটিতে বিদ্যালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে প্রধান শিক্ষককে শোকজ

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার খাগড়াখানা রহমআলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের বিদ্যালয়ে সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পেয়ে শোকজ করেছে জেলা প্রাথামিক শিক্ষা বিভাগ। তদন্ত শেষে অভিযুক্ত ওই প্রধান শিক্ষককে জেলা প্রাথামকি শিক্ষা অফিসার মো. নবেজ উদ্দিন সরকার স্বাক্ষরিত এক শোকজপত্র পাঠানো হয়। এতে বিধিমালা অনুযায়ী ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহনের পাশাপাশি পরবর্তী ০৩ কার্যদিবসের মধ্যে বিদ্যালয়ের আর্থিক দুর্নীতির জবাব চেয়ে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান কর্তৃক ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, স্লিপ মানি ও সরকারি বরাদ্ধকৃত অর্থ আত্মসাৎ, বিদ্যালয়ের ল্যাপটপ নিজ বাড়িতে ব্যবহার করাসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি অভিযোগ এনে চলতি বছরের ১০ জুলাই প্রাথমিক ও গনশিক্ষা অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক ও দুদক এ লিখিত অভিযোগ করেন অভিবাবকরা। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ১৯ জুলাই বিদ্যালয়ে আকস্কিভাবে তদন্তে যান জেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা। এসময় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিবাবকদের দায়ের করা সব অভিযোগের সত্যতা পান তদন্তকারী দল। পরে তারা পরবর্তী ০৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রধান শিক্ষককে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বরাবরে সব অনিয়ম ও দুর্নীতির কৈফিয়ত তলব করে একটি শোকজ পত্র ইস্যু করেন। এতে তদন্তকারীদল উল্লেখ করেন, পরিদর্শনের দিন প্রধান শিক্ষক ছুটি ব্যতিত বিদ্যালয়েল বাহিরে অবস্থান করছিলেন, ছাত্রছাত্রীদের সাথে কথা বলে ভর্তির সময় টাকা নেয়ার প্রমান পেয়েছেন। প্রধান শিক্ষক স্লিপ বরাদ্ধের ৫০হাজার টাকা, প্রাক প্রাথমিক শ্রেনী কক্ষের জন্য বরাদ্ধ বাবদ ১০ হাজার টাকার কোন উল্লেখযোগ্য ব্যয়ের খাত দেখাতে পারেনি। বিদ্যালয়ের জন্য সরকারি বরাদ্ধকৃত ল্যাপটপটি প্রধান শিক্ষক বাড়িতে তার ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন। এছাড়া জাতীয় শোক দিবস পালনে ২০০০ টাকা বরাদ্ধ থাকলেও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দেয়া টাকায় পালিত হয়েছে কর্মসুচি। শোকজ পত্রে আরো উল্লেখ করা হয়, শ্রেণীকক্ষে পাঠটিকা ও উপকরনের কোন ব্যবহার নেই ও প্রতিদনি শিক্ষার্থীদের সমাবেশ হওয়ার বিধান থাকলেও এতে খোদ প্রধান শিক্ষকই অনুপস্থিত থাকেন । প্রধান শিক্ষকে এসব কার্যক্রম সম্পূর্ণ বিধিবহিভূত ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে উল্লেখ করা হয় ওই চিঠিতে।

Leave a Comment