নদীর অব্যাহত ভাঙনে পাল্টে যাচ্ছে ঝালকাঠির মানচিত্র

Spread the love

ডেস্ক রিপোর্ট/

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের তীব্রতায় পাল্টে যাচ্ছে কাঁঠালিয়ার মানচিত্র। হুমকির মুখে রয়েছে কাঁঠালিয়া উপজেলা পরিষদও। ভাঙনের কারণে এলাকার মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে।উপজেলার ৩ ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী ৫টি গ্রামে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহের ভাঙনে বিষখালী তীরবর্তী আমুয়া, আউরা, কাঁঠালিয়া লঞ্চঘাট, আওরাবুনিয়া বাজারের অনেকগুলো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কয়েকশ’ একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মানবেতর জীবনযাপন করছে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ।

গত রোববার রাতে উপজেলা সদরের লঞ্চঘাট এলাকায় বড় ধরনের ফাটল দেখা দেয়। সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার আমুয়া, আউরা জয়খালী, চিংড়াখালী, মশাবুনিয়া, হেতালবুনিয়া, কাঁঠালিয়া সদর, বড় কাঁঠালিয়া, রঘুয়ার চর, আওরাবুনিয়া ও জাঙ্গালিয়া গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়ি তিনটি বাজারসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মসজিদ ও শত শত একর ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার সবচেয়ে বড় বাজার আউরাহাট বিষখালী নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। এ বাজারের কিছু ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন।কাঁঠালিয়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, বিষখালী নদীর ভাঙনে এ উপজেলার শত শত পরিবার নিস্ব হয়ে গেছে। ভাঙন প্রতিরোধে বিষখালী নদীতে ব্লক বসিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম জানান, ভাঙনে শত শত একর ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারের পানি সহজে ঢুকে ব্যাপক ফসলহানি ঘটে। পানিতে জমি ঘর-বাড়ি তলিয়ে যায়।

কাঁঠালিয়া উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান সিকদার বলেন, বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙনের হাত থেকে বাঁচতে উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি বেড়িবাঁধ নির্মাণের। বাঁধ নির্মাণ করে এ উপজেলার জনসাধারণকে নিরাপদে রাখা সরকারের দায়িত্ব।

ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া) আসনের এমপি বজলুল হক হারুন বলেন, আমি উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছি। ৪-৫টি গ্রাম বাঁধের বাইরে রয়েছে। আশা করি শিগগিরই বাকি কাজ শুরু করতে পারব।

ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. ফয়সাল বলেন, কাঁঠালিয়া নদীভাঙন এলাকা সার্ভে করে প্রাক্কলন তৈরির পর ঢাকায় পাঠানো হবে।

Leave a Comment