দালালকে অর্থদন্ড ঝালকাঠি টিটিসিতে দুর্নীতির দূর্গ

Spread the love

দালালকে অর্থদন্ড ঝালকাঠি টিটিসিতে দুর্নীতির দূর্গ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) দুর্নীতি দুর্ণীতি দূর্গে পরিণত হয়েছে। ৩০দিন মেয়াদী প্রশিক্ষণে ৩দিন অংশ গ্রহণ করে উৎকোচ দিলেই মিলে সনদ। প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে ৩০দিনের থাকা, খাওয়া, মশারী ও বিছানার চাদর বাবদ রাখা হয় ৫ হাজার টাকা। অধ্যক্ষের বাসভবনের নীচেই অবৈধভাবে তৈরী করা হয়েছে মহিলা হোস্টেল। প্রশাসনিক ও একাডেমীক ভবনের টয়লেটের সামনে নিয়মবহির্ভূত পরিচালনা করা হচ্ছে কেন্টিন। সিলেট থেকে ৫ নারীকে বিদেশগামী ১ মাস মেয়াদী হাউজ কিপিং (গৃহপরিচারিকা) প্রশিক্ষণের জন্য নিয়ে আসা ২ দালালকে অর্থদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মোঃ বশির গাজী এ অর্থদন্ড প্রদান করেন। সোমবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এ বিষয়ে অনুসন্ধান শেষে আদেশ প্রদান করেন তিনি। জানা গেছে, ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার এওয়াজপুর গ্রামের মৃত. মজিবুল হক মহাজনের পুত্র আঃ সত্তার মহাজন ঢাকাস্থ অ্যাক্টিভ ম্যানপাওয়ার সার্ভিসেস কোম্পানীতে চাকুরীর সুবাদে ঝালকাঠি পৌর শহরের শশ্মানঘাট এলাকার চা দোকানী আলমগীর হোসেন’র মাধ্যমে ঝালকাঠি টিটিসিতে যোগাযোগ করেন। টিটিসি একাডেমীক ইনচার্জ শাহীন বাদশা এখানে (ঝালকাঠি টিটিসি) ভর্তির আশ্বাস দেন। আশ্বাস পেয়ে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে ৫ নারীকে (যাদের প্রত্যেকের বয়স ২২ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে) ঢাকা থেকে লঞ্চ যোগে আঃ সত্তার তাদের টিটিসিতে নিয়ে আসেন। আগন্তুক নারীরা হলো হবিগঞ্জ উপজেলার তানাবানিয়াচং গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা আলপিনা আক্তার, একই এলাকার আব্দুল কাইউমের স্ত্রী সফুরা আক্তার, কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদি থানার করগাও গ্রামের হাবিবুর রহমানের স্ত্রী রেমা খাতুন, হবিগঞ্জ থানার তানিন্দা গ্রামের মুনসুর আলীর স্ত্রী কুলসুমা আক্তার, একই উপজেলার নবীগঞ্জ গ্রামের আজকির হোসেন’র স্ত্রী মাহমুদা বেগম। অভিযোগ রয়েছে, একাডেমীক ইনচার্জ শাহিন বাদশা’র স্ত্রী সাদেকা সুলতানা টিটিসি’র অধ্যক্ষ। দু’জনে মিলে টিটিসিকে দুর্নীতির দূর্গে পরিণত করেছেন। ক্যাম্পাসে থাকা গাছ কেটে বিক্রি, প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, নিজ বাসভবনের নীচ তলার গেস্টরুমে মহিলা হোস্টেল, ৩০দিন মেয়াদী প্রশিক্ষণের ৩দিন প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করিয়েই কোর্স সম্পন্ন করে সনদ প্রদান, থাকা-খাওয়া বাবদ টাকা রেখে তা ফেরত না দিয়ে আত্মসাৎ, সুবিধা নিয়ে টয়লেটের সামনেকেন্টিন দেয়ার সুযোগসহ বিবিধ অভিযোগ রয়েছে টিটিসির কর্তা দম্পতির বিরুদ্ধে। আলমগীর হোসেন জানান, আমার স্ত্রী, কন্যা এবং বোনকে এখানে ট্রেনিং দিয়ে বিদেশে পাঠিয়েছি। সেই সুবাদে বাদশা স্যারের পরিচয় হয়েছে। আঃ সত্তার আমার সাথে যোগাযোগ করলে আমি বাদশা স্যারের সাথে কথা বললে তিনি এখানে আসতে বলেছেন। তাই আমিও সত্তারকে এখানে তাদের নিয়ে আসতে বলেছি। অধ্যক্ষ কর্তৃক ট্রেনিং কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। আঃ সত্তার জানান, সিলেটের টিটিসিতে ভর্তিতে চাপ অনেক বেশি। এখানে হাউজ কিপিং প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষণার্থীদের চাপ কম থাকায় ঝালকাঠিতে নিয়ে আসছি। প্রবাসী কল্যান মন্ত্রণালয়ের অধীনে সারাদেশে ১৪শ’ রিক্রুটিং এজেন্সি আছে। আমি এক্টিভ ম্যানপাওয়ার সার্ভিসেস এজেন্সিতে চাকুরী করি। টিটিসির একাডেমীক ইনচার্জ শাহীন বাদশা জানান, সকালে তারা কাগজপত্র নিয়ে আমার কাছে আসলে কাগজপত্রে ত্রুটি থাকলে তা সংশোধনের জন্য বলেছি। তাদেরকে ভর্তি করিনি। দুর্নীতির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। টিটিসির অধ্যক্ষ ঢাকায় একটি প্রশিক্ষণে আছেন তিনি বিস্তারিত বলতে পারবেন। টিটিসি অধ্যক্ষ সাদেকা সুলতানার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মোঃ বশির গাজী জানান, একটি দালাল চক্র টিটিসি কর্মকর্তাদের যোগসাজসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নারীদের নিয়ে এসে এখানে প্রশিক্ষণ দেয়ায়। টিটিসি কর্তৃপক্ষ, দালাল ও প্রশিক্ষণার্থীরা সবাই নিয়ম ভঙ্গ করে বাড়তি সুবিধা নেয়। সিলেট বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ৫ নারীকে প্রশিক্ষণের জন্য নিয়ে আসায় দালাল আইনে আঃ সত্তারকে ১৫ হাজার টাকা ও আলমগীর হোসেনকে ৫হাজার টাকা অর্থ দন্ডে দন্ডিত করা হয়। সিলেট থেকে আগন্তুক মহিলাদের স্বসম্মানে বাড়িতে পৌছে দিতে দালাল আঃ সত্তারকে কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। টিটিসি অধ্যক্ষসহ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ডিসি স্যার (জেলা প্রশাসক) সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন জানাবেন বলেও জানান এনডিসি মোঃ বশির গাজী। ক্যাপশনঃ- ঝালকাঠির টিটিসি’র (বা থেকে) অধ্যক্ষ সাদেকা সুলতানা, একাডেমীক ইনচার্জ শাহিন বাদশা ও সিলেট থেকে আগন্তুক বিদেশ গমনের জন্য প্রশিক্ষণ নিতে আসা মহিলাগণক্যাপশনঃ- ঝালকাঠির টিটিসিতে দালালী করে সিলেট থেকে ৫ নারীকে নিয়ে আসা দন্ডিত আঃ সত্তার ও আলমগীর হোসেন। ক্যাপশনঃ- ঝালকাঠি টিটিসির একাডেমীক ও প্রশাসনিক ভবনের পুরুষ টয়লেটের পাশে মহিলা টয়লেটের সামনের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে স্থাপিত কেন্টিন। আরিফ খান ঝালকাঠি প্রতিনিধি ০১৭১৯৪৬৩৬৭৪

Leave a Comment