দই খেলে দূর হবে পেটের ব্যথাসহ নানা সমস্যা

Spread the love

ডেস্ক রিপোর্ট:

দই আমাদের অতিপরিচিত ও প্রিয় একটি খাবার। আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ লোকই দই খেতে পছন্দ করেন। এটি যে কেবল স্বাদেই অসাধারণ তা কিন্তু নয়, হজমে সহায়তা করাসহ ত্বককে সুস্থ রাখতে দইয়ের ভূমিকাও অতুলনীয়।

মশলাদার খাবারের পর দই খাওয়ার রীতি আমাদের সমাজে এখনো অনেক জায়গায় প্রচলিত রয়েছে। এটি কিন্তু এমনি এমনি সৃষ্টি কোনো রীতি নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে যে, দই পেট ব্যথাসহ নানা রকমের হজমজনিত সমস্যা দূর করতে সহায়তা করতে পারে। তাই ভারী খাবারের পর দই খাওয়া অত্যন্ত স্বাস্থ্য সম্মত।

প্রোবায়োটিকস ও অ্যান্টিমিক্রোবিয়াল প্রোটিন জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হচ্ছে, গরুর খাঁটি দুধের তৈরি দইতে একটি বিশেষ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া রয়েছে, যা পেটের ব্যথার জন্য দায়ী বিষাক্ত আফলাটক্সিন বি-১ এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়ক।

আফলাটক্সিন অনেক সময় গম ও বাদামের মতো খাবারে সংক্রামিত হতে পারে। এই আক্রান্ত খাবারগুলি খেলে আমাদের স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, ফলে পাকস্থলীতে হালকা ব্যথা থেকে শুরু করে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। আফলাটোসিন বি-১ আসলে খাদ্যে বিষক্রিয়া বা ফুড পয়জনিংয়ের অন্যতম সাধারণ কারণ।

দইয়ে বিদ্যমান বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ফুড পয়জনিংয়ের জন্য দায়ী আফলাটোসিন বি-১ এর বিরুদ্ধে কার্যকর। আফলাটোসিনের বিনাশের মধ্য দিয়ে এটি আমাদের ফুড পয়জনিং ও অন্যান্য হজমজনিত সমস্যা থেকে দূরে রাখে।

দই খাওয়ার অন্যান্য উপকারিতা
হজম সমস্যা ও পেটে ব্যথা দূর করা ছাড়াও দই নানাভাবে আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে-

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করে
ভালো ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে এবং দিনের বেলা বায়ুবাহিত রোগের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করতে সহায়তা করে।

শক্তিশালী হাড় ও দাঁত
ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস সমৃদ্ধ দই শক্তিশালী হাড় এবং দাঁত বিকাশে সহায়তা করে।

ওজন কমাতে সহায়তা করে
দই আমাদের দেহে স্থূলত্ব এবং উচ্চ রক্তচাপের জন্য দায়ী করটিসোল জমতে বাধা দেয়। প্রতিদিন দই খেলে তা আপনাকে ওজন কমাতে সহায়তা করবে।

স্বাস্থ্যকর ও উজ্জ্বল ত্বকের জন্য
দইতে অ্যাসিডিক যৌগ থাকে, যা ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার সঙ্গে লড়াই করতে অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল হিসেবে কাজ করতে পারে। কিছুটা চুনের রসের সঙ্গে দই মিশিয়ে দশ মিনিটের জন্য আপনার মুখে লাগান। হালকা গরম পানি দিয়ে পরে ধুয়ে ফেলুন।

ত্বকের কুঁচকে যাওয়া প্রতিরোধ করে
দইয়ে বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ত্বকের যৌবন ধরে রাখতে এবং অকালে কুচকে যাওয়া হতে ত্বককে রক্ষা করতে সহায়তা করে।

দাগ দূর করে
দই কোমল উপায়ে ত্বককে এক্সফোলাইটেড করতে সহায়তা করে। যদি আপনার মুখে দাগ থাকে এবং আপনি যদি প্রাকৃতিকভাবে চিকিৎসা করতে চান, তবে দই আপনার প্রাকৃতিক প্রতিকার হতে পারে।

খুশকি দূর করে
অ্যান্টি-ফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্যযুক্ত দই খুশকি দূর করার জন্য আপনার প্রাকৃতিক প্রতিকার হতে পারে।

Leave a Comment