ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদককে শোকজ

Spread the love

ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠি জেলা বিএনপির উপদেষ্টাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা এবং দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের আভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুরের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় বিএনপি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ গত ১ জুন রাতে ঝালকাঠি এসে পৌঁছায়। আগামী ১০ দিনের মধ্যে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুপুরকে ওই নোটিশের লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

কেন্দ্র থেকে প্রেরিত নোটিশ এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সাধারন সভায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুরের একক স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে কথা বলায় জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও নলছিটি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম গিয়াসকে সকলের সামনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন নুপুর ও তার ভাই মাহামুদুল ইসলাম নান্টু। একই সময় নুপুর ও তার ভাই নান্টু সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনমুল হক এলিন ও রাজাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদককেও লাঞ্ছিত করেন। এসব ঘটনা তদন্ত করে সুস্পষ্ট প্রমাণ পায় কেন্দ্রীয় বিএনপি।

কেন্দ্র থেকে প্রেরিত নোটিশে মনিরুল ইসলাম নুপুরের বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তার কারণ উল্লেখ করে আগামী ১০ দিনের মধ্যে একটি লিখিত প্রতিবেদন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বরাবরে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেরণ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম গিয়াসকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পর বিএনপির নেতাকর্মীরা নুপুরের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা নুপুরের হাত থেকে জেলা বিএনপিকে রক্ষা করার জন্য কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতাদের প্রতি দাবীও জানিয়েছেন। এদিকে নুরুল আলম গিয়াসকে লাঞ্ছিত করার পর থেকে জেলা বিএনপির সভাপতিসহ দলে অধিকাংশ নেতাকর্মীরা সাধারণ সম্পাদক নপুরকে এড়িয়ে চলছেন। গত ৩০ মে মনিরুল ইসলাম নুপরকে বাদ দিয়েই স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে জেলা বিএনপি ইফতার পার্টির আয়োজন করে।

এব্যাপারে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুর সাংবাদিকদের জানান, ১৬ এপ্রিল নুরুল আলম গিয়াস জেলা বিএনপির সাধারন সভার সিদ্ধান্তের বিপক্ষে কথা বলায় তার সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে তার। তাকে গালিগালাজ বা লাঞ্ছিত করা হয়নি। তিনি এখনও নোটিশ হাতে পাননি। হাতে পেলে যথা সময়ে কেন্দ্রে নোটিশের জবাব দেয়া হবে বলে জনান নুপুর।

Leave a Comment