ঝালকাঠির পরিবহন শ্রমিকরা অভাব-অনটনে

Spread the love

ডেস্ক রিপোর্ট/

ঝালকাঠি আন্তঃজেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির অধীনে শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য জাহিদ হোসেন। একার উপার্জন দিয়েই চলে ৬জনের সংসার। গত ২৫ মার্চ থেকে জেলার অভ্যন্তরীণ এবং বহির্গমন সব রুটে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে উপার্জনহীন হয়ে পড়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বাস ড্রাইভার জাহিদ। শুধু জাহিদই নন, এমন অবস্থায় আছেন ঝালকাঠি আন্তঃজেলা বাস ও মিনি বাস শ্রমিক ইউনিয়নের ৬শতাধিক শ্রমিক। বাস মালিক অথবা মালিক সমিতির পক্ষ থেকে একবার ১০ কেজি চালসহ আরো কয়েকটি উপাদান নিয়ে মালিক সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কয়েকজন শ্রমিকও এভাবে সহায়তা পেয়েছেন। কিন্তু মালিক সমিতির পক্ষ থেকে শ্রমিকদের জন্য কোন খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিকরা।
করোনা পরিস্থিতির কারণে সারাদেশে গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। সারাদেশের মতো ঝালকাঠিতেও বিভিন্ন সড়কের গণ-পরিবহনে চাকরি করতেন শত শত শ্রমিক। গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় তারাও আজ চাকরিবিহীন অসহায়। অনেক কষ্টে দিন অতিবাহিত করে জীবন যাপন করছেন তারা।
এ অবস্থায় বাস, ট্রাক, মিনিবাসসহ নানাবিধ লোকাল ও দূরপাল্লার গাড়ি চলাচল নেই। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে সেই চালক-হেলপারদের সংসারে অর্থাভাবে হাহাকার চলছে। চলতি রমজান মাসেই পরিবারের জন্য ইফতার সামগ্রী বা প্রতিদিনের খাবার যোগাড় করেও হিমশিম খাচ্ছেন এসব খেটে খাওয়া মানুষ। চালক-হেলপারদের পরিবারসহ চলতে অনেক কষ্ট হয়ে পড়ছে।
শহরের পেট্রোলপাম্প সংলগ্ন এলাকায় মালেক মোল্লা নামে এক বাসচালক বসবাস করেন দীর্ঘ বছর ধরেই। তিনি ছোট টিন সেটের একটি ঘরেই দুই মেয়ে এক ছেলে সন্তান ও স্ত্রীসহ পরিবার নিয়েই বসবাস করছেন। তিনি বলেন, গাড়ি চলাচল বন্ধ হওয়ায় অনেক কষ্টে পরিবার নিয়ে জীবন-যাপন করছি। নতুন করে কিছু করবো, সেটাও পাচ্ছি না। আমার স্ত্রী বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে কাজ করতো, সেখানেও যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ অনেকেই করোনার কারণে ঘরের কাজে, কাজের লোক রাখছেন না। ছেলে-মেয়ে বড় হয়েছে। তাদেরও খাবার দরকার। কোনো রকমে কষ্টেই দিন পার করছি।
একই কথা বললেন বাসের ২৪ বছরের হেলপার রহিম বাদশা। তিনি বলেন, ঘরে আমার মা-বোনসহ একটি ভাড়া বাসায় থাকি। গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে ভ্যানে করে সবজি বিক্রয় করছি। মা-বোনদের খাবার যোগারের জন্য কিছু একটাতো করতেই হবে। পরিবারের জন্য তিন বেলা খাবার যোগার করা অনেক কষ্টের। তবে গাড়ি চলাচল শুরু হলে আবারও হয়তো সেখানে চলে যাবেন বলে জানান তিনি। এমন চিত্র ঝালকাঠি আন্তঃজেলা বাস ও মিনি বাস শ্রমিক ইউনিয়নের অধীনে সদস্য হওয়া বিভিন্ন স্থানে বসবাস করা একাধিক চালক-হেলপারের।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শ্রমিকরা অভিযোগ করে জানান, আমরা এখন না খেয়ে মরছি কেউ আমাদের দেখছে না। কমিটির কর্মকর্তারা মোবাইল বন্ধ কওে রেখেছে। আমরা তাদের বাসায় গেলেও দেখা পাইনা। মালিক সমিতির পক্ষ থেকেও আমাদের কোন ব্যবস্থা নেয়নি। কয়েকদিন আগে মালিক সমিতির অধীনস্ত কয়েকজন কলম্যান ও কেরানিরে সাহায্য দিছে। আমাদের কেউ কিছু দেয়নি। আমরা কি পোলাপান নিয়ে না খেয়ে মরবো বলেও হতাশা প্রকাশ করেন শ্রমিকরা।
এব্যাপারে ঝালকাঠি আন্তঃজেলা বাস ও মিনি বাস শ্রমিক ইউনিয়নের লাইনম্যান মোঃ শহিদুল ইসলাম সিকদার বলেন, ঝালকাঠি আন্তঃজেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতিতে গাড়ি আছে ১০৬টি। আর শ্রমিক ইউনিয়নে ৬শতাধিক শ্রমিক আছে। এদের মধ্যে ৪শ’জনকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে ১০ কেজি চাল ও আলুসহ বিভিন্ন উপাদান দেয়া হয়েছে। প্রায় ২মাস গাড়ি বন্ধ থাকায় ১০কেজি চালে আর কতদিন চলে। অপরদিকে যাদের বাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় তাদের ওই ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা পাইয়ে দেয়া হয়েছে। তবে পৌরসভার এলাকায় যারা আছেন তাদের খাদ্য সহায়তা না পাওয়ায় খাদ্য সংকটে আছেন বলেও জানান তিনি। সভাপতি মোঃ মজিবর রহমান জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে মানবিক দৃষ্টিতে এগিয়ে আসতে হবে। এতে আমাদের গাড়ির চালক-হেলপাররাও এক প্রকার অসহায় হয়ে পড়েছে। তাদের সাধ্যমতো সাহায্য পাইয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে।
জানা গেছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে জনসমাগম ও চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বিভিন্ন কর্মজীবী মানুষও। বিশেষ করে পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় কাজ হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন পরিবহন শ্রমিক বা চালক-হেলপাররা। সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। সব মিলিয়ে তাদের দিনগুলো চলছে অনেক কষ্টে এবং জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ।
গত ২৫ মার্চ থেকে ঝালকাঠি জেলায় চলছে অঘোষিত লকডাউন। ফার্মেসি আর নিত্যপণ্যের দোকান ছাড়া সবকিছু বন্ধ রয়েছে। মানুষকে ঘরে রাখতে চলছে নানা কার্যক্রম। আর এতে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ।

Leave a Comment