ঝালকাঠিতে গৃহবধূকে নির্যাতনের পর মুখে বিষ ঢেলে হত্যা, বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

Spread the love

ঝালকাঠিতে গৃহবধূকে নির্যাতনের পর মুখে বিষ ঢেলে হত্যা, বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃঝালকাঠির নলছিটিতে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের পর গৃহবধূর মুখে বিষ ঢেলে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১ জুন নলছিটি পৌরসভার বৈচন্ডী গ্রামে স্বামী বাড়িতে থাকাকালীন তাকে নির্যাতনের পর মুখে বিষ ঢেলে দেয় স্বামী ও তার স্বজনরা। ১৫দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নুসরাত জাহান ইভা ওই গ্রামের তরিকুল ইসলাম লিংকন হাওলাদারের স্ত্রী ও দক্ষিণ বৈচন্ডী গ্রামের গাজী আক্তার হোসেনের মেয়ে। গৃহবধূ ইভাকে বিষ দিয়ে হত্যার বিচারের দাবিতে সোমবার দুপুরে ঝালকাঠি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলণ করেন তার পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ওই গৃহবধূর বাবা গাজী আকতার হোসেন। এসময় লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, পাঁচ বছর পূর্বে বৈচন্ডী গ্রামের হাবিবুর রহমান হাওলাদারের ছেলে তরিকুল ইসলাম লিংকন হাওলাদারের সঙ্গে বিয়ে হয় নুসরাত জাহান ইভা আক্তারের। বিয়ের পর নানা কারণে ইভাকে নির্যাতন করতো তাঁর স্বামী। এছাড়াও ইভার পরিবারের কাছে দুইলাখ টাকা যৌতুক দাবি করেছিল লিংকন। নির্যাতন সইতে না পেরে গত ৩০ মে দুপুরে ইভা অজ্ঞান হয়ে যায় । পরে স্বামী তরিকুল ইসলাম লিংকনসহ অন্যরা মিলে ইভার মুখে জোরপূর্বক বিষ ঢেলে দেয়। এ ঘটনার পরও তাকে তাঁর স্বামীসহ পরিবারের অন্যান্য লোকজন চিকিৎসা দিতে হাসপাতালে নেয়নি। খবর পেয়ে পরদিন তাঁর বাবা এসে স্বামীর বাড়ি থেকে উদ্ধার করে প্রথমে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু জোর পূর্বক মুখে বিষ দেয়ার পর দীর্ঘসময় ধরে চিকিৎসা না পাওয়ায় তার শরীরে বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে। যার ফলে তার বেঁচে থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। দীর্ঘ ১৫দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে সে শুক্রবার সন্ধ্যায় মারা যায়। এ ব্যাপরে গত শনিবার বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের পর মৃতদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এদিকে গৃহবধূ ইভা আক্তারের মৃত্যু খবর ছড়িয়ে পড়লে তার স্বামী লিংকন হাওলাদারসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। লিখিত বক্তব্যে ইভার বাবা গাজী আক্তার হোসেন আরো বলেন, আমি বাড়িতে বিল্ডিংয়ের কাজ শুরু করেছি। এ ঘটনার পর থেকে মেয়ের কাছে জামাই দুইলাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিল। বিভিন্ন সময় আমি তাকে ৩০ হাজার, ২০ হাজার করে টাকা দিয়েছি। কিন্তু সর্বশেষ সে মোটরসাইকেল কিনবে বলে টাকা চায়। কিন্তু আমি টাকা না দেওয়ায় মেয়ের ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় লিংকন। পলাতক থাকায় লিংকনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলা যায়নি।

অপরদিকে ইভার পরিবার লিংকনসহ তার স্বজনদের আসামী করে নলছিটি থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে মামলা নিতে অপরগতা প্রকাশ করে পুলিশ। ময়নাতদন্তের চুরান্ত প্রতিবেদন না পেয়ে মামলা নেয়া যাবে না বলে জানিয়ে দেন ওসি।

নলছিটি থানার ওসি (তদন্ত) আবদুল হালিম তালুকদার বলেন, কি কারণে গৃহবধূ ইভার মৃত্যু হয়েছে সেটি স্পষ্ট ভাবে জানা যায়নি। হাসপাতালের ছাড়পত্রে নিউমোনিয়া রোগের কারণ লেখা ছিলো, পরবর্তীতে সেটি পরিবর্তন করে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের চুরান্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান ওসি।

Leave a Comment