ঝালকাঠিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল আত্মসাৎ

Spread the love

ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ

ঝালকাঠির নথুল্লাবাদ ইউনিয়নের দিবাকরকাঠির দিনমজুর আউয়াল সরদার (৩৫)। প্রতিদিনের রোজগার দিয়ে সংসার চলছিল না তাঁর। সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকায় তাঁর নাম দেয় স্থানীয় জনপ্রতিধিরা। ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ করে করে চালও পায় সে। কিন্তু হঠাৎ করেই ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের ডিলার আরিফ হোসেন খোকন দিনমজুরের কার্ড ফেরত নেয়। বন্ধ হয়ে যায় তাঁর স্বল্পমূল্যে চাল কেনার ক্ষমতা। ১৫ মাস ধরে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল পাচ্ছেন না তিনি। করোনাকালে কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছিলেন তিনি। পরে জানতে পারেন তাঁর নামের কার্ডটি এখনো সচল রয়েছে, কিন্তু চাল পাচ্ছেন না। তাঁর নামের কার্ডের চাল আত্মসাত করার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় ডিলারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনা জানাজানি হলে চাপের মুখে ওই ডিলার স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়ে দিনমজুরের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছেন। শুধু নথুল্লাবাদ ইউনিয়নের একজন ডিলারই নয়, ঝালকাঠির জেলা বিভিন্ন স্থানে ডিলারদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে সরকারের খাদ্যবান্ধব চাল বিক্রি নিয়ে কারসাজির। বিনয়কাঠি ইউনিয়নের ১৩ জন দরিদ্র মানুষের নামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড থাকলেও তাঁরা পাচ্ছে না চাল। ১০ টাকা কেজির চাল না পেয়ে তারা জেলা প্রশাসক ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে অভিযোগ করেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবদুস ছালাম। আউয়াল সরদার অভিযোগ করেন, করোনায় আমি কর্মহীন হয়ে পড়েছি। আমার ১০ টাকা কেজি দরের চালের কার্ড ১৫ মাস আগে ডিলার ফেরত নেয়। পরে শুনেছি, ওই কার্ডটি তিনি আরেকজনকে দিয়েছেন। বিষয়টি আমি জানতে পেরে ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল কবিরকে জানালে, তিনি চুপ থাকতে বলেছেন। এ ব্যাপারে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ডিলার আরিফ হোসেন খোকন বলেন, আউয়ালকে ১০ টাকা কেজি দরের চাল দেওয়ার পরে, তাঁর নামে ভিজিডি’র কার্ড ইস্যু হয়। পরবর্তীতে তাঁর কার্ডটি একই এলাকার মাসুম নামে একজনকে দিয়েছি। আমি কারো চাল আত্মসাত করিনি। বিনয়কাঠি গ্রামের বহরমপুর গ্রামের আবদুর রহিম বলেন, আমার নামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড ইস্যু হইছে, কিন্তু আমি এখনো চাল পাইনি। আমি গরিব মানুষ, করোনায় কোন সাহায্য সহযোগিতা পাইনি। আমি জেলা প্রশাসকের কাছে এ ব্যাপারে অভিযোগ করেছি। আমাদের মানে কার্ড করে চাল খায় জনপ্রতিনিধিরা। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। এ ব্যাপারে বিনয়কাঠি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ধরণের অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমার ইউনিয়নের গরিব মানুষ যারা, তাঁরা সবাই কোন না কোনভাবে সহযোগিতা পেয়েছে। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবদুস ছালাম বলেন, এক ডিলারের বিরুদ্ধে লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল নিয়ে কারসাজির অভিযোগ উঠবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Comment