ঝালকাঠিতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় নমিনেশন ফরম ক্রয় করেছেন ৪ আ,লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী

Spread the love

ডেক্স রিপোর্ট,ঝালকাঠি:: আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝালকাঠি সদর উপজেলা থেকে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থী রয়েছেন। এরই মধ্যে গত সোমবার থেকে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য চার চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। সোমবার উৎসবমুখর পরিবেশে ঢাকার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয় দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মনোনয়ন ফরম বিক্রির কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। ঝালকাঠি সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চার সম্ভাব্য প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছেন। তারা হলেন- বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো.সুলতান হোসেন খান,সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ রাজ্জাক সেলিম, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি খান আরিফুর রহমান, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোস্তাফিজুর রহমান।

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানাগেছে, আসন্ন পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরুহয়েছে গত সোমবার থেকে। আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা অফিসে মনোনয়ন ফরম বিক্রির জন্য খোলা হয়েছে আট বিভাগের আটটি বুথ। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা তাদের কর্মী-সমর্থক নিয়ে ভিড় জমিয়েছেন সেখানে। আগামী ৭ ফ্রেরুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ এবং জমা দেয়া যাবে। প্রতিটি ফরমের দাম ধরা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। শুধু চেয়ারম্যান পদে দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হবে। ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদটি উন্মুক্ত থাকবে।

বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক মো. সুলতান হোসেন খান বলেন, আমি ছাত্রজীবন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। এরপর ১৯৯৬ সালে সম্মেলনে ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হই। পরে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হই ও এখন দলের জেলা কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে থেকে দলীয় কর্মকান্ড পরিচালনা করছি। বিগত ৫ বছর উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালীন উপজেলা পরিষদ থেকে কোনো টাকা পয়সা নেইনি। আমি আশা রাখি, দল আমাকে মূল্যায়ন করবে। দল মনোনয়ন দিলে অবশ্যই আমি নির্বাচন করব।

সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ রাজ্জাক সেলিম বলেন, এলাকার মানুষের দাবীর প্রেক্ষিতেই এবারে আমি নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ ক্ষেত্রে দল থেকে মনোনয়ন পেলেও নির্বাচন করবো আর না পেলেও নির্বাচন করবো। তিনি বলেন, বার বার এলাকার মানুষের দাবী আমি উপেক্ষা করতে পারিনা। আমার সময় কি কাজ হয়েছে তা জনগন ও দলের হাইকমান্ড অবগত আছেন- তারা জানেন- আল্লাহ সাক্ষ্মী আমি উপজেলা চেয়ারম্যান থাকা কালিন কাউর সাথে দূর্ব্যবহার করেনি, অত্যাচার করেনি, কাহারও নামে মামলা করেনি, কাহারও উপকার করতে না পারলেও ক্ষতি করেনি, সরকারী টাকায় এককাপ চাও খাইনি, সর্বত্র একটা শান্তি শান্তি ভাব ছিল। সততার একটা উৎকৃষ্ট ঊদাহারন স্থাপন করে মানুষের সন্তুষ্টি অর্জন করেছি বলে আজ তৃনমুলের কাছে আমি সমাদৃত। আমি নেতা নয় সেবক হবার মানুষিকতা লালন করে আসছি।

জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি খান আরিফুর রহমান বলেন, আমাকে সদর উপজেলা তৃর্ণমূলের নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আল্লাহর রহমতে আমি জয়লাভ করলে আলহাজ্ব আমির হোসেন আমু ভাইয়ের হাত কে শক্তি শালি করতে এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ করব ও জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালি করার লক্ষ্যে কাজ করব।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি বিগত ১০ বছর যাবৎ সদর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে যাচ্ছি। দলকে সুসংগঠিত করেছি। সব সময় নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম। আশা করি দল আমাকেই মূল্যায়ন করবে। আমাকে দলীয় নমিনেশন দিলে আসারাখি আমারা জয়লাভ করে আলহাজ্ব আমির হোসেন আমু ভাইয়ের হাত ধরে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ঝালকাঠি সদর উপজেলাকে মাদক মুক্ত করব সাধারন মানুষের পাশে থাকব। দলীয় নমিনেশন না পেলে নির্বাচনে আসবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন,সেটা তখন দেখা যাবে নির্বাচন করব কি না এখন কিভাবে বলবো।

এব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা এ প্রতিবেদক কে বলেন,নির্বাচন মানেই উৎসব মুখর পরিবেশ,আর এই উৎসব মুখর পরিবেশ কে ফিরিয়ে আনতে হলে একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকতে হয়। বর্তমানে আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের নেতা কর্মীরা একটু নড়েচড়ে উঠেছে। সকলের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে অনেক নেতা মাঠে থাকবে আবার কিছু কর্মীরা নিজেদের সমর্থিত নেতারা নির্বাচনে মাঠে থাকছেন। কেউ আবার বলছেন,সরকার দলীয় নমিনেশন প্রথা বাতিল করলে হাজারো কোনঠাসা, নির্যাতিত,নিপিড়িত নেতা কর্মিরা পড়ে আছে নির্জন গ্রামে,তাদের খোজ খবর নিতে হতো। আমরা চাই একটি সুন্দর পরিবেশে সকলের অংশগ্রহনের মাধ্যমে সুষ্টু নির্বাচন। মাঠে খেলোয়ার না থাকলে খেলবে কে। ক্লাসে ছাত্র জদি একজন থাকে তাহলে তার রোল এক নম্বর হয়। সোজা কথা জনগনের ম্যন্ডেড নিয়ে নির্বাচিত হলে সেই চেয়ারের মুল্য থাকে

Leave a Comment