কিশোরগঞ্জে মাদক উদ্ধার করতে গিয়ে হামলার শিকার ৪পুলিশ, বিশেষ টিমের সহযোগীতায় উদ্ধার

Spread the love


কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি :

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে মাদক উদ্ধার করতে গিয়ে অবরুদ্ধ ও হামলার শিকার হয়েছেন চার পুলিশ। তাৎক্ষনিক বিশেষ টিমের অভিযানে তাদেরকে উদ্ধার ও এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দশ জনকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের পর চারজন ছাড়া পায়। বৃহস্পতিবার বাকী ছয়জনকে কিশোরগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাত সাতটার দিকে উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের পাইকশা বাজারে। জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আচমিতা ইউনিয়নের পাইকশা বাজারে আব্দুস সাত্তারের মুদির দোকানে অভিযান চালায় কটিয়াদী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, নূরাহাত ও দুজন কনস্টেবল। এ সময় গাঁজাভর্তি একটি সিগারেট পায় পুলিশ। দোকানী আব্দুস সাত্তারকে থানায় নিয়ে আসতে চাইলে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে জানায় সাত্তার একজন ভাল লোক। সে কোন প্রকার মাদকের সাথে জড়িত নয়। স্থানীয় লোকজন সাত্তারকে ভাল লোক হিসাবে সাক্ষ্য দেয়ায় পুলিশ তৎক্ষনাৎ তাকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু বাধ সাধে কিছু দুষ্টপ্রকৃতির লোক। তারা পুলিশের সাথে কথা কাটাকাটি শুরু করে এবং পুলিশের কাছে জানতে চায় সাত্তারের দোকানে মাদক আছে এমন তথ্য কে দিয়েছে? এ সময় এলাকার শতাধিক লোক তাদের সাথে একত্রিত হয়ে পুলিশকে অবরুদ্ধ ও তাদের উপর হামলা করে। এ সংবাদ পেয়ে থানার বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ পুলিশদেরকে উদ্ধার ও রাকিব আহমেদ(২০), আজিজুক হক মুরাদ (২০), আবদুল কাদির(৩০), বাচ্চু মিঞা(৩৫), মান্নান(২৪) ও রমজান(২৭)সহ ১০জনকে আটক করে। পুলিশ রাতেই জিজ্ঞাসাবাদ করে কাজল মেম্বার,আনোয়ারসহ ৪জনকে ছেড়ে দেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্কুল মাস্টার বলেন, পুলিশকে অবরুদ্ধ করতে যারা জনতাকে উস্কে দিয়েছে তারা মাদক ব্যবসায়ী ও খারাপ মানুষ। ঘটনা ঘটিয়ে তারা পালিয়ে যায়। কটিয়াদী থানার ওসি এমএ জলিল বলেন, সাত্তারের দোকানে অভিযানের পর পুলিশ বুঝতে পারে এটি একটি ষড়যন্ত্র ছিল। তাই তারা সাত্তারকে ছেড়ে দেয়। কয়েকজন ক্রিমিনাল জনতাকে পুলিশের বিরুদ্ধে উস্কে দেয়। এ ঘটনায় এসআই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ২৩জন জ্ঞাত, ১০০-১৫০জন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। ছয় জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করে ৫ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। নিরীহ কাউকে হয়রানি করা হবে না।

Leave a Comment