কাঠালিয়ায় মামলার আসামী ধরে উৎকোচ

Spread the love

কাঠালিয়ায় মামলার আসামী ধরে উৎকোচ
নিয়ে ছেড়ে দেন এসআই আবু বকর
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার কৈখালী এলাকার ফৌজদারী মামলার (নং-০৮, তারিখ ২৩ -০৮-১৯ইং) প্রধান দু’ আসামী জিলাম খান ও জাফর আলী খানকে আটক করে মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবু বকরের বিরুদ্ধে। মামলার অন্য আসামীরা আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। মামলার বাদী মোঃ অলি উল্লাহ মুন্সিকে মামলা তুলে নিতে অব্যাহত হুমকি দিচ্ছে আসামীরা। থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে থানার দালালি ও হাট বাজারে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে আসামীরা।
মামলার বিবরণে জানাগেছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২২ আগস্ট পূর্ব কৈখালী বাজারে শালিস মিমাংসার আহ্বান করে স্থানীয় গন্যমান্যরা। অলি উল্লাহর প্রতিপক্ষরা শালিস অমান্য করে। পরিকল্পিতভাবে জিলাম খান, জাফর আলী খান, ফজলু শরীফ, নানক গাইন, কালাম হাওলাদার, রশিদ হাওলাদার, মোমেনা বেগম, আঃ রশিদ হাওলাদার, জুলহাস মোল্লা, ইকবাল খলিফা অতর্কিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে জুয়েল মুন্সি, রাজ্জাক মুন্সি, বাবুল মুন্সি, মকবুল হাওলাদার, আব্দুল আজিজ খান, আউয়াল খান ও আব্দুল গনিকে মারধর করে আহত করে। এদের মধ্যে গুরুতর রক্তাক্ত জখমী জুয়েলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেন। এঘটনায় অলি উল্লাহ বাদী হয়ে ১৪৩/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৫০৬(২) ধারায় কাঠালিয়া থানায় মামলা (নং-০৮, তারিখ ২৩/০৮/১৯ইং) দায়ের করেন। বাদী অলি উল্লাহ জানান, মামলা রুজু হবার কিছুক্ষণের মধ্যেই থানা পুলিশ মামলার ১ নং আসামী জিলাম খান ও ২ নং আসামী তার পিতা জাফর আলী খানকে আটক করেছিলো। মধ্য রাতে রফাদফা করে মোটা অংকের বিনিময়ে ওসি ম্যানেজ হয়ে আসামীদের ছেড়ে দেয়। থানার দালালি করে থানার সামনে ও বাজারে প্রকাশ্যে ঘুরছে। মামলা তুলে নিতে আমাদের অব্যাহত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। আসামীদের আটক না করা এবং তাদের সাথে পুলিশের সখ্যতা থাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলেও অভিযোগ করেন বাদী অলি উল্লাহ। কাঠালিয়া থানার ওসি এনামুল হক জানান, মামলা দায়েরের পর একজন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) কে মামলার তদন্তসহ সার্বিক দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি বিস্তারিত বলতে পারবেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) এসআই আবু বকর মুঠোফোনে জানান, ৩২৬ ধারায় মামলা নিলেই তো আর তা প্রমাণ হয়ে যায় না। মেডিকেল রিপোর্ট আসার পরে ৩২৬ প্রমাণিত হবে। আপনারা মামলা রুজু করলেন কিভাবে? এমন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তিনি এ বিষয়ে ওসি’র সাথে আলাপ করেন বলেই লাইনটি কেটে দেন।
উল্লেখ্য, মামলার ১ নং আসামী জিলাম খানের নামে হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

Leave a Comment